নামাজ ইসলামের অন্যতম মূল স্তম্ভ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত, যা দৈনিক পাঁচবার আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর আবশ্যক। তবে অনেক সময় আমরা না জেনে এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা নামাজকে ভঙ্গ করে দেয়। নামাজ শুদ্ধভাবে আদায় করতে হলে আমাদের অবশ্যই এসব বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
নিচে এমন ৬টি কারণ দেওয়া হলো, যেগুলোর যেকোনো একটি ঘটলে নামাজ ভেঙে যায় বা বাতিল হয়ে যায়:
১. কথা বলা
নামাজরত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে একটি শব্দও উচ্চারণ করলে নামাজ ভেঙে যায়। এমনকি সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত কাউকে উত্তর দেওয়া, হাস্যকৌতুক বা দুনিয়াবি কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলাও নামাজকে বাতিল করে দেয়।
২. হাসা (আওয়াজসহ)
নামাজে যদি কেউ এমনভাবে হাসে যাতে আওয়াজ বের হয়, তাহলে নামাজ বাতিল হয়ে যায়। আওয়াজ ছাড়া হেসে ফেললে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে তা থেকেও বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে জামাতে নামাজে জোরে হাসলে অজু পর্যন্ত ভেঙে যেতে পারে।
৩. কিছু খাওয়া বা পান করা
নামাজের সময় কোনো খাবার খাওয়া বা পানি পান করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। মুখে কিছু রাখা, চিবানো কিংবা গিললেও নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে নামাজের আগে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম।
৪. কিবলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া
নামাজে কিবলার দিকে মুখ রাখা ফরজ। ইচ্ছাকৃতভাবে পুরো মুখ বা শরীর কিবলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে নামাজ ভেঙে যাবে। হালকা মাথা ঘোরানো বা চোখের দৃষ্টি সরানোতে সমস্যা নেই, তবে পুরো মুখ ফেরানো নামাজকে বাতিল করে।
৫. অজু ভেঙে যাওয়া
নামাজের জন্য পবিত্রতা (অজু) থাকা আবশ্যক। নামাজের মধ্যে যদি কারও অজু ভেঙে যায়, যেমন গ্যাস বা বায়ু বের হওয়া, প্রস্রাব-পায়খানা হওয়া, ঘুমিয়ে যাওয়া—তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নামাজ বাতিল হয়ে যায়।
৬. অতিরিক্ত শরীর নড়াচড়া করা
নামাজে অপ্রয়োজনীয় ও বারবার শরীর নাড়াচাড়া করা যেমন বারবার হাত ঠিক করা, জামা টানা, ঘড়ি দেখা, মোবাইল টেপা—এসব করলে নামাজ সহিহ থাকে না। এক রাকাতে তিনবারের বেশি অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া করলে নামাজ ভেঙে যেতে পারে।
উপসংহার:
একটি নামাজ শুদ্ধভাবে আদায় করতে হলে শুধুমাত্র আয়াত ও দোয়া জানা যথেষ্ট নয়, বরং নামাজের শিষ্টাচার, আদব এবং তা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোও জানা জরুরি। এসব কারণ থেকে সচেতন থাকলে আমরা আমাদের ইবাদতকে আরও সুন্দরভাবে পালন করতে পারব।
প্রস্তত করেছেন
রিপোর্টার
ধর্মীয় খবর।
Leave a Reply