নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৯ জুলাই ২০২৫ইং
বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় দেখা যায়, বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীতে কিংবা যেকোনো ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধে বহু অমুসলিমও অংশগ্রহণ করে এবং অনেকে সেই যুদ্ধে প্রাণ হারায়। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কেউ কেউ আত্মত্যাগ করেন ন্যায়ের পক্ষে, দেশের জন্য বা নিপীড়নের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে—একজন হিন্দু যদি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন, তাহলে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি কি ‘শহীদ’ হবেন?
শহীদ কাকে বলা হয়?
ইসলামী শরিয়তে ‘শহীদ’ শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণ মৃত্যুবরণকারীর চেয়ে অনেক উচ্চ মর্যাদার নির্দেশ করে। শহীদ অর্থ সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর রাস্তায়, ঈমানের ভিত্তিতে, ইসলামের সপক্ষে যুদ্ধ করে বা জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শহীদ হন।
কুরআনের দলিল:
“আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তাদেরকে তুমি মৃত মনে করো না। বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত, তাদেরকে রিযিক দেওয়া হয়।”
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৯)এখানে ‘আল্লাহর রাস্তায় নিহত’ হওয়ার শর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়াটাই যথেষ্ট নয়—আল্লাহর উদ্দেশ্যে, ঈমানের ভিত্তিতে, দ্বীনের জন্য হওয়াটাই মূল বিষয়।
হাদীসের আলোকে শহীদের শর্ত
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
> “যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সর্বোচ্চ করার জন্য যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করেছে।”
(সহীহ বুখারী: ২৮১০)
অতএব, একজন ‘শহীদ’ হওয়ার জন্য তিনটি মূল শর্ত অপরিহার্য:
১. আল্লাহর প্রতি ঈমান থাকা
২. আল্লাহর রাস্তায় বা ইসলামের জন্য যুদ্ধ করা
৩. সে যুদ্ধে নিহত হওয়া
এখানে ‘আল্লাহর কালিমা’ বা ঈমান ছাড়া যুদ্ধ করলে সেটা শহীদের মর্যাদার অন্তর্ভুক্ত হয় না।
অমুসলিমের (যেমন হিন্দু) যুদ্ধ ও মৃত্যু
যদি একজন হিন্দু ব্যক্তির মধ্যে মানবতা, ন্যায়বোধ ও দেশপ্রেম থাকে এবং সে যুদ্ধে জীবন দেয়—তা মানবিক দিক থেকে প্রশংসনীয় হলেও, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি ‘শহীদ’ হবেন না, কারণ:
১. তার ঈমান নেই
২. সে আল্লাহর কালিমাকে শ্রেষ্ঠ করতে যুদ্ধ করেননি
৩. ইসলামী উদ্দেশ্য অনুপস্থিত
কুরআনের দলিল:
> “আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম গ্রহণ করতে চায়, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না; এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫)
অতএব, ঈমান ছাড়া কোনো আমলই আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না।
—
চার মাযহাবের অভিমত
চারটি প্রধান মাজহাব—হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি—সকলেই একমত যে:
> “শহীদ হওয়ার জন্য মুসলমান হওয়া এবং ঈমান সহকারে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা আবশ্যক।”
অতএব, কোনো অমুসলিম ব্যক্তি—even if he dies in a just war—তাকে ইসলামী পরিভাষায় শহীদ বলা যাবে না।
মানবিক মর্যাদা বনাম শরিয়তের মর্যাদা
একজন অমুসলিম (যেমন: হিন্দু) ব্যক্তি যদি মানবতার পক্ষে আত্মত্যাগ করেন, তবে মানুষ তার প্রতি সম্মান প্রকাশ করতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে ‘বীর’ বা ‘দেশপ্রেমিক’ বলা যেতে পারে। কিন্তু ইসলামী শরিয়তের সংজ্ঞায় তাকে ‘শহীদ’ বলা যাবে না।
শুধু তখনই ইসলামী দৃষ্টিতে শহীদ হবেন, যদি মৃত্যুর পূর্বে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হন।
উপসংহার
একজন হিন্দু ব্যক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে ন্যায় ও মানবতার পক্ষে লড়াই করে প্রাণ দিলে তিনি মানবিক মর্যাদায় প্রশংসনীয় হবেন, তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘শহীদ’ হবেন না। কারণ শহীদ হওয়ার মৌলিক শর্ত হল—ঈমান, আল্লাহর উদ্দেশ্য, এবং ইসলামের পক্ষে আত্মত্যাগ।
প্রস্তুত করেছে:
ইসলামী চিন্তাধারা ডেস্ক
SmartKulaura.com
তারিখ: ১৮ জুলাই ২০২৫ ইং,
আপনার মতামত দিন:
আপনার দৃষ্টিতে একজন অমুসলিম যুদ্ধ করে মারা গেলে কি তাকে শহীদ বলা যায়?
হ্যাঁ, বলা যায়
না, বলা যায় না
বিস্তারিত জানি না
এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্মানযোগ্য, তবে ইসলামি শহীদ নয়।
Leave a Reply